Minister is up to destroy our Movie Industry thumbnail

Minister is up to destroy our Movie Industry

March 5, 2013

‘দুই বাংলার চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনের আড়ালে ঢাকা ও কলকাতার চলচ্চিত্রের আদান-প্রদানের উদ্যোগে ফুঁসে উঠছে ঢালিউড। চলতি মাসেই আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো। সংগঠনের নেতারা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগ আত্মঘাতী। কারণ এটি অসম উদ্যোগ। কলকাতার এক থেকে দেড়শ কোটি টাকার চলচ্চিত্রের সঙ্গে ঢাকার এক বা দেড় কোটির টাকার চলচ্চিত্রের আদান-প্রদান কীভাবে সম্ভব। এ উদ্যোগ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়।গত ১১ জানুয়ারি কলকাতা চলচ্চিত্রশিল্প ও বাণিজ্য ফেডারেশনের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এফডিসিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসে। এতে কলকাতার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ, প্রসেনজিৎ, জিৎ, বিজয় খেমকা, শ্রীকান্ত মেহতা প্রমুখ। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী দুই বাংলার চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনে সরকারের সর্বাত্দক সহযোগিতার ঘোষণা দেন এবং এ লক্ষ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির জন্য কলকাতা ও ঢাকার চলচ্চিত্রকারদের পরামর্শ দেন। প্রসেনজিৎ বৈঠকে জানান, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কলকাতা সফরকালে স্থানীয় চলচ্চিত্রকার ও ব্যবসায়ীদের দুই বাংলার চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনের উদ্যোগ নিতে বলেন এবং এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাদের ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আজ আমরা এখানে এসেছি এবং এ লক্ষ্যে বৈঠক করছি।

এফডিসির বৈঠকে তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে চলচ্চিত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকলেও তারা এ উদ্যোগের বিপক্ষে কথা বলেন। তাদের যুক্তি ছিল প্রথমে সমতা, তারপর আদান-প্রদানের উদ্যোগ চাই। চলচ্চিত্রকারদের অভিযোগ, তাদের প্রস্তাবে কর্ণপাত না করে এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী আবার কলকাতা সফর করেন। সেখানে চলচ্চিত্রকার ও বাণিজ্য ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ ব্যাপারে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ”বাংলাদেশের বিরাট বাজার খুলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমার কাছে। ভারতের ছবি বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে অবাধ প্রদর্শনের জন্য আইন সংশোধন করছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। আইন সংশোধনের খুঁটিনাটি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।” কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাকে উদ্ধৃত করে একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা জানায়, ”বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে টালিগঞ্জের নায়ক প্রসেনজিৎ বলেন, ”জনাব ইনু মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এ বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছেন। বাংলাদেশেও অনেক ভালো সিনেমা হয়, সেগুলো যাতে কলকাতার হলগুলোতে প্রদর্শন হয় সে বিষয়ে চেষ্টা করছি।” তথ্যমন্ত্রী আনন্দবাজারকে আরও বলেন, ”মেলবন্ধনকে আমি অগ্রাধিকার দেই। কারণ ইন্টারনেট-ওয়েবসাইটের যুগে আইন করে কোনো দেশের সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করে রাখা হাস্যকর। ভারতের সিনেমার অবাধ প্রদর্শনের জন্য আমরা যেমন উদ্যোগী হয়েছি, এদেশেরও উচিত বাংলাদেশের সিনেমা প্রদর্শনে বাধানিষেধ তুলে নেওয়া। আনন্দবাজারকে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”আমরা চাই ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ মাল্টিপ্লেঙ্ যৌথ উদ্যোগে সিনেমার আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং স্টুডিও তৈরি করুক।’

‘বদল আইনে টালিউড এবার বাংলাদেশেও” শিরোনামে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ”বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সংকট কাটাতেই তিনি হাত মেলানোর প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কলকাতার চলচ্চিত্র মহলের কাছে।” আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই দিন তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কলকাতার চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের সংগঠন ”ফিকি”-এর খসড়া সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। টালিউডের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রসেনজিৎ।

চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে গতকাল তথ্যসচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুনের কাছে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমদানি নীতিমালা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। শীঘ্রই বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে এবং উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে।” এদিকে এ খবরে চলচ্চিত্র সংগঠনের নেতারা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম খোকন বলেছেন, ”চলতি মাসেই এ উদ্যোগ বাতিলের ঘোষণা চাই। নইলে শাহবাগে ব্লগারদের আন্দোলনের মতো চলচ্চিত্রের নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলীরাও বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলবে। দাবি আদায়ে রাজপথে বসতে বাধ্য হবে। কারণ বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য নয় যে তথ্যমন্ত্রী চাইলেই এখানে ভারতের ছবি অবাধে প্রদর্শন করা যাবে।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইন করে এদেশে উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়ে গেছেন। এই আইন অমান্যের দুঃসাহস দেখানো কারও উচিত নয়। কারণ বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কেউ হতে পারে না। খোকন বলেন, ওইদিন বুঝতে পারেনি যে এটি একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তাই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলাম। যখন জানতে পারলাম কলকাতার ভেঙ্কেচেশ ফিল্মের সঙ্গে এদেশের একটি বড়মাপের ব্যবসায়ী সংগঠন চলচ্চিত্র আমদানির চুক্তি গোপনে স্বাক্ষর করে ফেলেছে তখন এটি যে এদেশের চলচ্চিত্র ধ্বংসের নীলনকশা তা আর বুঝতে বাকি নেই। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানাতে চাই অবিলম্বে এই মরণখেলা বন্ধ করুন, নয়তো এর পরিণতি শুভ হবে না।

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, কোনো অবস্থাতেই এদেশে ভারতের চলচ্চিত্র চলতে দেওয়া হবে না। কারণ ভারত বাংলাদেশে তাদের চলচ্চিত্রের বাজার তৈরি এবং এদেশের চলচ্চিত্র ধ্বংসের নীলনকশা বাস্তবায়নে নেমেছে। তা না হলে এদেশের চলচ্চিত্রকারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এই ”গোপন উদ্যোগ” কেন? কার স্বার্থে? এর কয়েকটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেমন ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা করা হয়। শিল্পের নীতিমালা তৈরির জন্য এ পর্যন্ত দুবার চলচ্চিত্র সংগঠনের নেতাদের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের জন্য ডেকেও তা স্থগিত করে দেন। এফডিসি ও প্রেক্ষাগৃহকে ডিজিটাল করার দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিও সরকার কর্ণপাত করেনি। ১৫ বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে গ্রেডেশন পদ্ধতি চালুর দাবি করে আসছিলাম। কিন্তু তা করা হয়নি। হঠাৎ করে সম্প্রতি এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতীয় চলচ্চিত্র বিনাকর্তনে এখানে প্রদর্শন করা। কারণ ভারত কখনো তাদের ছবি এখানে সেন্সর করতে দেবে না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ফিল্ম আর্কাইভ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, সিনেমা হলকে ডিজিটাল করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে তিনি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করেছেন। এটাও হঠাৎ করে কেন? এই দাবি ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের। এখন তাহলে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের স্বার্থেই তড়িঘড়ি করে এ উদ্যোগ। খসরু হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, চলতি মাসেই মেলবন্ধনের উদ্যোগ বাতিল করতে হবে। না হলে রাজপথে এর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চলচ্চিত্র চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ বাচ্চু বলেন, এদেশে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে হলে তা হতে হবে সুষম বিনিময় নীতিমালার অধীনে। নয়তো এ উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমানে সুষম বিনিময়ের অবস্থা আমাদের নেই। আমরা যাতে ভারতীয় ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যেতে পারি সে ব্যবস্থা আগে করা হোক। তারপর মেলবন্ধনের বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে। কিন্তু যদি এদেশের চলচ্চিত্রকে অসম প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেওয়া হয় তাহলে সব চলচ্চিত্র সংগঠনের এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

চলচ্চিত্র গিল্ড সমিতির সভাপতি আবু মুসা দেবু বলেন, হুট করে এ অসম উদ্যোগ কার স্বার্থে। কলকাতার সঙ্গে আমাদের ছবির আনুপাতিক আদান-প্রদানকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমাদের ছবিকে তো আগে তাদের সমপর্যায়ে যেতে হবে। এ জন্য সরকার মেলবন্ধনের চুক্তির আগে এখানে আন্তর্জাতিকমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যবস্থা করুক। তারপর বাট্টা প্রক্রিয়ার আদান-প্রদানে যেতে আমাদের কোনো অমত থাকবে না। না হলে ক্ষতিকর এ উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেব না। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খান বলেন, দেশীয় চলচ্চিত্রের ক্রান্তিলগ্নে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আত্দঘাতী। কারণ আমাদের এখানে এখনো তাদের বাজেট বা মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে না। তাহলে আমাদের চলচ্চিত্র তারা প্রদর্শন করবে কেন? এতে তো এদেশ ভারতীয় চলচ্চিত্রের একচেটিয়া বাজারে পরিণত হবে। ফলে আমাদের চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংস হবে। শিল্পীরা পথে বসবেন। এ অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। আগে শুধু ভারত নয়, বিশ্বে প্রদর্শনের উপযোগী চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যবস্থা এখানে করা হোক। তারপর মেলবন্ধনে আপত্তি থাকবে না। নয়তো এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হব।

email

Related Images:

Be Sociable, Share!

Comments

comments

By CinemaGuru


5 Comments on "Minister is up to destroy our Movie Industry"

  1. anis on Mon, 25th Mar 2013 12:49 pm 

    like

  2. md.shahadat on Mon, 25th Mar 2013 7:54 pm 

    free download

  3. rj nazmul hossain on Fri, 12th Apr 2013 10:12 pm 

    valo ,nice

  4. tanbir on Mon, 20th May 2013 11:09 pm 

    i watch continues my facebook

  5. tarik gazi on Mon, 19th Aug 2013 7:59 am 

    tomi ka




Gallery