তিশার মুখে টেলিভিশন ছবির পুরস্কার পাওয়ার বিস্তারিত কাহিনি thumbnail

তিশার মুখে টেলিভিশন ছবির পুরস্কার পাওয়ার বিস্তারিত কাহিনি

January 8, 2014

মাত্র কদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন থেকে ফিরেছেন তিশা। এসেই ব্যস্ততা। তারই ফাঁকে ২২ ডিসেম্বর তিশার সঙ্গে আড্ডার সুযোগ পাওয়া গেল। কথা হলো তিশার বাসায়, সকালের খাবারের টেবিলে। কারণ, এরপরই তাঁকে ছুটতে হবে উত্তরায়, নাটকের শুটিংয়ে। ওদিকে তিশার স্বামী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তখনো বিছানায়। কিছুক্ষণ পর তিনিও এলেন খাবারের টেবিলে। ততক্ষণে কথা শুরু হয়ে গেছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক স্ক্রিন পুরস্কারে ‘জুরি গ্র্যান্ড পুরস্কার’ পেয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত টেলিভিশন ছবিটি। এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন টেলিভিশন ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার আনিসুল হক আর অভিনয়শিল্পী তিশা।

আড্ডার শুরুতেই এল অ্যাওয়ার্ড নাইটের প্রসঙ্গ। তিশার মুখটি খুশিতে ভরে গেল। কারণ, টেলিভিশন ছবিটি জিতেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পুরস্কার আর এ আয়োজনটি যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘অস্কার’ বলে পরিচিত।

১২ ডিসেম্বর। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের কিং জর্জ স্কয়ারে ব্রিসবেন সিটি হল। এখানেই আয়োজন করা হয় এশিয়া-প্যাসিফিক স্ক্রিন পুরস্কারের ‘অ্যাওয়ার্ড নাইট’। বিকেল সাড়ে চারটা। অ্যাওয়ার্ড নাইটের অন্যতম আকর্ষণ রেড কার্পেট। এই রেড কার্পেটে হাঁটলেন আনিসুল হক আর তিশা। এই আয়োজনে সেরা ছবি এবং সেরা চিত্রনাট্য (আনিসুল হক ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) বিভাগে মনোনয়ন পায় টেলিভিশন।

শাড়ির কারণে প্রথম থেকেই তিশার দিকে ছিল সব আলোকচিত্রীর চোখ।

তিশা বলেন, ‘ততক্ষণে চিত্রনাট্যের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা হয়ে গেছে। বাকি আছে শুধু সেরা ছবির নাম ঘোষণা। আমার বুকের ভেতর ঢিপ ঢিপ করছে। পাশে আনিস ভাইয়ের (আনিসুল হক) মুখে দেখি হাসি। আসলে অনুষ্ঠানের প্রায় পুরো সময়টাতেই তিনি ছিলেন হাসিমুখে। তিনি অনুষ্ঠানটি উপভোগ করছিলেন। জুরি গ্র্যান্ড পুরস্কারের ব্যাপারে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। আমি তখন তাকিয়ে ছিলাম মঞ্চের মধ্যে বিশাল আকারের মনিটরের দিকে। আমাদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে, আমাদের মঞ্চে ডাকা হচ্ছে—তা বুঝতে আমার কয়েক মুহূর্ত সময় লেগেছিল। যখন বুঝতে পারলাম, সেই আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না।’

অ্যাওয়ার্ড নাইটের পর ছিল অতিথিদের সম্মানে রাতের খাবারের আয়োজন। সেখানে আনিসুল হক আর তিশাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রায় সবাই। তিশার ভাষায়, ‘সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। মনে হলো, ইতিহাসে আমাদের নাম লেখা হয়ে গেল। আমি তখন অনেককেই বলেছি, মাত্র তো শুরু হলো। এরপর বাংলাদেশ থেকে আরও অনেক ছবি আসবে। পুরস্কারও পাবে।’

পুরস্কারটা কোথায়? জুরি গ্র্যান্ড পুরস্কারটা দেখার আগ্রহ হলো। তিশা বলেন, ‘পুরস্কারটা অনেক বড়। সঙ্গে আনা সম্ভব ছিল না। তারা পরে কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেবে।’
পুরস্কার তো পাওয়া হলো, এবার বেড়ানোর প্রসঙ্গ। তিশা বলেন, ‘সময়টা ছিল খুবই কম। তাই খুব একটা বেড়ানো হয়নি। যতটুকু সময় পেয়েছি, তার মধ্যে গিয়েছি গোল্ড কোস্ট, কোত থা, ক্যাঙারু পয়েন্ট আর স্টোরি ব্রিজে। ওই সময়টায় ফারুকীকে খুব মিস করেছি।’

এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি ফারুকী। কারণ, ওই সময় তিনি ছিলেন দুবাইয়ে। দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর নতুন ছবি পিঁপড়াবিদ্যা প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয়।
ফারুকী জানান, যেতে না পারলেও পুরো অনুষ্ঠানটিই তিনি দেখেছেন টিভিতে। তাঁর মুখেও দেখছি হাসির ছোঁয়া। বললেন, ‘ইরানের আসগর ফরহাদির দ্য পাস্ট, জাপানের হিরোকাজু করিদার লাইক ফাদার লাইক সন আর ভারতের রিতেশ বাত্রার দ্য লাঞ্চবক্স ছবিকে হারিয়ে পুরস্কার জিতেছে টেলিভিশন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

ফারুকী বলেন, ‘পুরস্কারটি আমাদের দেশের নির্মাতাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব চলচ্চিত্রের শতকরা ৫৮ ভাগ ছবি তৈরি হয় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয়। অস্কারের আদলে এই পুরস্কারের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো নির্বাচিত ছবি জমা দেয়। এবার তো কান, ভেনিস আর বার্লিন উৎসবে সাড়া জাগানো অনেক ছবি অংশ নিয়েছে এই প্রতিযোগিতায়।’

চায়ের কাপ হাতে তিশা চলে যান তাঁর রুমে। ব্যাগ গোছাতে। যাওয়ার আগে বলেন, ‘কাল (সোমবার) সকালে তেমন কাজ নেই। ছবিটা আমরা কালই তুলব।’ আর ফারুকী বলেন, ‘এখন আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোর আয়োজকদের মধ্যে বাংলাদেশের ছবির ব্যাপারে আগ্রহ বাড়ছে। এটা কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতের জন্য খুবই আশার কথা।’

email

Related Images:

Be Sociable, Share!

Comments

comments

By CinemaGuru





Gallery